২০৪টি পদক্ষেপ, ১৪০টির কোনো সাড়া নেই

টেবিলে ২০২২ সালে কমিশনের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ জেলাওয়ারি তালিকাভুক্ত: জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেওয়া নির্দেশ, তারিখ ও স্মারক নম্বরসহ। শেষ কলামে আছে সংস্থাগুলো যে অগ্রগতি জানিয়েছে।

২০৪টির মধ্যে ১৪০টির ক্ষেত্রে কলামে লেখা "বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায় নি"। আরও ২৩টির ক্ষেত্রে শুধু বলা আছে, তাগিদ পাঠানো হয়েছে। মাত্র ৪১টিতে কোনো হালনাগাদ আছে, প্রতিবেদন পাওয়া থেকে শুরু করে আদালতে মামলা চলা পর্যন্ত।[এনআরসিসি]

  • ১৪০ অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি (৬৯%)
  • ২৩ শুধু তাগিদ পাঠানো হয়েছে
  • ৪১ হালনাগাদ আছে

প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য একটি বর্গ, প্রতিবেদনের ক্রমে, ১ থেকে ২০৪। সূত্র: এনআরসিসি বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২, টেবিল ৩.০১।

তালিকায় কারা, আর কতজনকে উচ্ছেদ করা হয়েছে

একই প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসনগুলো নদী, খাল ও জলাশয়ের যত অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করেছে এবং ২০২১ ও ২০২২ সালে যতজনকে উচ্ছেদ করেছে, তার হিসাব আছে। দুটি জেলা, মাদারীপুর ও মেহেরপুর, কোনো তথ্য পাঠায়নি।[এনআরসিসি]

২৮,৭৯৯
৬২টি জেলায় তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার
৯,৬১১
২০২১ সালে উচ্ছেদ
৩,৫০৮
২০২২ সালে উচ্ছেদ, ৬৪% কম

প্রতিবেদন বলেনি কেন উচ্ছেদ কমেছে।

বিভাগ অনুযায়ী

বিভাগতালিকাভুক্তসবচেয়ে বড় বিভাগের তুলনায় অংশউচ্ছেদ ২০২১উচ্ছেদ ২০২২
ঢাকা১২টি জেলা৮,১৪৫৩,১৬০৮৯২
খুলনা৯টি জেলা৪,৯৬৫১,৩৮০৮৪৬
ময়মনসিংহ৪টি জেলা৩,৬৪৩২,০৭৮৫৯৫
চট্টগ্রাম১১টি জেলা৩,২৬০৪৫৬১৩৮
রাজশাহী৮টি জেলা৩,১১৫৯৭২৪৬১
বরিশাল৬টি জেলা২,৪৫৫৭৬২৫৪৮
সিলেট৪টি জেলা১,৮৮৬৬৭৭২৫
রংপুর৮টি জেলা১,৩৩০১২৬৩

নিচের জেলাওয়ারি সারির যোগফল। বরিশালের প্রথম কলামের ছাপা মোট ২,৪৪৬, কিন্তু এর ছয় জেলার যোগফল ২,৪৫৫; আমরা জেলাগুলোর সংখ্যা যেমন ছাপা, তেমনই রেখেছি।

জেলা ধরে ধরে

৬২টির মধ্যে ৬২টি জেলা

জেলাবিভাগতালিকাভুক্তউচ্ছেদ ২০২১উচ্ছেদ ২০২২
নারায়ণগঞ্জঢাকাঢাকা২,৯৮০২,৬০৫৪৭০
ফরিদপুরঢাকাঢাকা২,৫৯১১৪১০
কুমিল্লাচট্টগ্রামচট্টগ্রাম২,৩২২৩০৫০
ময়মনসিংহময়মনসিংহময়মনসিংহ২,০৭৪১,৩৮২৯৭
পাবনারাজশাহীরাজশাহী১,৬৪৪৬২৭৪০২
বরিশালবরিশালবরিশাল১,২৮৭২৯৩১২৬
নাটোররাজশাহীরাজশাহী১,২৫২২৬৭১২
বাগেরহাটখুলনাখুলনা১,০৪৪২৪৮৪৩৭
টাঙ্গাইলঢাকাঢাকা১,০১৮২০৮০
চুয়াডাঙ্গাখুলনাখুলনা৯৯৭৫১০০
খুলনাখুলনাখুলনা৯৫৭৬১০
সুনামগঞ্জসিলেটসিলেট৮৯৮১২৫৯
সিলেটসিলেটসিলেট৮২৯৪৫১০
নেত্রকোণাময়মনসিংহময়মনসিংহ৭৪৩২৭৭৪১৬
সাতক্ষীরাখুলনাখুলনা৫৯৪৩০০০
পটুয়াখালীবরিশালবরিশাল৫৯৩১৪৫৩২৯
নড়াইলখুলনাখুলনা৫৭৬০৩৮০
জামালপুরময়মনসিংহময়মনসিংহ৫৩৪২৫৪২৩
বরগুনাবরিশালবরিশাল৪৫৭২৬৪৯৩
গাইবান্ধারংপুররংপুর৪৫৭৭৬০
ঠাকুরগাঁওরংপুররংপুর৪৫৩৭০
বান্দরবানচট্টগ্রামচট্টগ্রাম৩৬৩০০
ঢাকাঢাকাঢাকা৩৪৪০৩৪০
কুষ্টিয়াখুলনাখুলনা৩২৪৫২৭
রাজবাড়ীঢাকাঢাকা৩১৩৪১০
শেরপুরময়মনসিংহময়মনসিংহ২৯২১৬৫৫৯
নীলফামারীরংপুররংপুর২৮১০০
মুন্সীগঞ্জঢাকাঢাকা২৭৪১৬০১
ঝিনাইদহখুলনাখুলনা২৭১১০৫০
মানিকগঞ্জঢাকাঢাকা২০৬৮৪১
কক্সবাজারচট্টগ্রামচট্টগ্রাম১৫৫০০
যশোরখুলনাখুলনা১৫৩১৫১২
লক্ষ্মীপুরচট্টগ্রামচট্টগ্রাম১৫১২৬০
ব্রাহ্মণবাড়িয়াচট্টগ্রামচট্টগ্রাম১৪৭৬৯১৩৫
নরসিংদীঢাকাঢাকা১২৪৯০০
ঝালকাঠিবরিশালবরিশাল১১৭৫৯০
কিশোরগঞ্জঢাকাঢাকা১১৫২৪০
মৌলভীবাজারসিলেটসিলেট১০৮৬৬০
পঞ্চগড়রংপুররংপুর১০৬৩৬০
জয়পুরহাটরাজশাহীরাজশাহী৮০১০০
গোপালগঞ্জঢাকাঢাকা৬৯২৩
শরীয়তপুরঢাকাঢাকা৬৭০০
রাঙ্গামাটিচট্টগ্রামচট্টগ্রাম৬৬০৩
চট্টগ্রামচট্টগ্রামচট্টগ্রাম৫৫৫৫০
হবিগঞ্জসিলেটসিলেট৫১৩৫১৬
মাগুরাখুলনাখুলনা৪৯০০
গাজীপুরঢাকাঢাকা৪৪৮২৭
বগুড়ারাজশাহীরাজশাহী৩৮৩১০
চাঁপাইনবাবগঞ্জরাজশাহীরাজশাহী৩৮৩৭১
রাজশাহীরাজশাহীরাজশাহী২৯০২৯
কুড়িগ্রামরংপুররংপুর১৭০২
সিরাজগঞ্জরাজশাহীরাজশাহী১৭০০
নওগাঁরাজশাহীরাজশাহী১৭০১৭
রংপুররংপুররংপুর১৬৭১
চাঁদপুরচট্টগ্রামচট্টগ্রাম১১০
পিরোজপুরবরিশালবরিশাল১১০
খাগড়াছড়িচট্টগ্রামচট্টগ্রাম০০০
নোয়াখালীচট্টগ্রামচট্টগ্রাম০০০
ফেনীচট্টগ্রামচট্টগ্রাম০০০
ভোলাবরিশালবরিশাল০০০
লালমনিরহাটরংপুররংপুর০০০
দিনাজপুররংপুররংপুর০০০

সংখ্যাগুলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসনগুলো যেভাবে তালিকাভুক্ত করেছে। প্রতিবেদনের শূন্য মানে শূন্যই; মাদারীপুর ও মেহেরপুর নেই, কারণ তারা কিছু পাঠায়নি। সূত্র: এনআরসিসি বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২, টেবিল ৩.০২।

আদালতে

নদী সংক্রান্ত মামলায় কমিশনকেও পক্ষভুক্ত করা হয়: তাদের নিজের গণনায় ১৩২টি, হাইকোর্ট বিভাগে ৯৬টি, আপিল বিভাগে ৪টি ও নিম্ন আদালতে ৩২টি।[এনআরসিসি]

প্রতিবেদনে ৯৬টি হাইকোর্ট মামলার তালিকা আছে, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ দখল ও দূষণ নিয়ে ২০০৯ সালের রিট থেকে শুরু করে সীমানা বিরোধ এবং বালু ও পাথর উত্তোলন পর্যন্ত, প্রতিটিতে কমিশনের পদক্ষেপসহ। অনেকটিতে সেই পদক্ষেপ হলো আদালতের আদেশের পর জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি।

ওপরের টেবিলের সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে: কমিশন লেখে, তাগিদ দেয় এবং মামলায় পক্ষ হয়, আর তার বেশির ভাগ পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলো তারপর কী করল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো কথা নেই।

আমরা কীভাবে পড়েছি

অধ্যায়টি একটি স্ক্যান করা টেবিল, এতে কোনো টেক্সট স্তর নেই, তাই প্রতিটি গণনা পাতার ছবি থেকে করা। আমরা ১ থেকে ৪০ নম্বর পাতার প্রতিটিতে টেবিলের আঁকা রেখা খুঁজে বের করেছি, সেই রেখা ধরে ক্রমিক ও অগ্রগতির কলাম কেটেছি, এবং প্রতিটি পদক্ষেপকে তার ওপর পড়া অগ্রগতি-ঘরটি দিয়েছি, কারণ একটি ঘর প্রায়ই কয়েকটি পদক্ষেপের ওপর মেলানো থাকে। শেষ পদক্ষেপটি ৪১ নম্বর পাতায় একা এবং সেটি চোখে দেখে পড়া হয়েছে। তারপর প্রতিটি পাতা ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছি। পদক্ষেপের নম্বর ১ থেকে ২০৪ পর্যন্ত কোনো ফাঁক ছাড়া চলেছে।

“তথ্য নেই” প্রতিবেদনের নিজের ভাষা, সামান্য ভিন্নতাসহ। ১৪০টির মধ্যে ৬টিতে তাগিদের কথাও আছে। “হালনাগাদ” মানে অন্য যেকোনো লেখা: প্রতিবেদন পাওয়া, একটি চিঠি, আদালতে মামলা, কাজ চলছে। হালনাগাদ মানে সত্যিকারের অগ্রগতি কি না, তা আমরা বিচার করিনি।

জেলাওয়ারি টেবিলটি প্রতিবেদনের ৮১ ও ৮২ নম্বর পাতা থেকে হাতে টুকে যোগ করা হয়েছে; ওপরে উল্লেখ করা একটি ছাড়া প্রতিটি বিভাগ ছাপা মোটের সঙ্গে মেলে। এর সূত্র হিসেবে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনকে উল্লেখ করেছে। এখানে কোনো সংখ্যাই আমাদের অনুমান নয়।