
সরকারি তালিকায় ১,৪১৫টি নদী। অন্তত ৭৯টি মৃত বা শুকিয়ে যাচ্ছে।
নদীগুলো কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে, স্যাটেলাইটে কী দেখা যায়, আর ক্ষতির মধ্যে কারা বাস করেন, দেখুন। প্রতিটি সংখ্যার সূত্র দেওয়া আছে।
রাজশাহীর কাছে পদ্মায় জেগে ওঠা বালুচর, ৮ জানুয়ারি ২০২৪.ছবি: Asker Ibne Firoz, CC BY-SA 4.0
রেখাটি টানুন। ৩৬ বছরের পরিবর্তন দেখুন।
গড়াই পদ্মার পানি দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবনের দিকে নিয়ে যায়। বাঁয়ে ১৯৮৯ সালের মার্চ, ডানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি, দুটিই শুকনো মৌসুমের ছবি। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার গড়াইকে মৃত বা শুকিয়ে যাওয়া নদীর তালিকায় রেখেছে।[দ্য ডেইলি স্টার]
সাদা রেখাটি টানুন, অথবা ছবির নিচের বোতাম ব্যবহার করুন।
নদীগুলো কোথায় মরছে
একটি মানচিত্র, নথির পাঁচটি স্তর। প্রতিটি রং এসেছে কোনো প্রকাশিত তালিকা থেকে। রংহীন নদী মানে সেটি মূল্যায়ন হয়নি; এর মানে সুস্থ নয়।
- মূল্যায়ন হয়নি
- মৃত বা শুকিয়ে যাচ্ছে
- দখল বা দূষণে আক্রান্ত
- ভারত বা মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ
- জেলাপ্রতি নদী, কম থেকে বেশি
ওপেনস্ট্রিটম্যাপে বাংলাদেশের ভেতরে যেসব নামধারী নদী আঁকা আছে, এগুলো সেই নদী। নীল মানে কোনো প্রকাশিত তালিকা এখনো এদের মূল্যায়ন করেনি। এর মানে সুস্থ নয়।
রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার ৭৯টি নদীকে মৃত বা শুকিয়ে যাওয়া নদী বলেছে।[দ্য ডেইলি স্টার] এর ৪৯টি এখানে ভাঙা রেখায় আঁকা, ১৩টি একটি নামধারী স্থানে এবং ৮টি সরকারি তালিকায় দেওয়া উপজেলায়। ৯টির অবস্থান নির্ণয় করা যায়নি: কেন, দেখুন।
গোলাপি রেখাগুলো সেই নদী, যেগুলোকে দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৫ সালের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিবেদন বিভাগওয়ারি দখল বা দূষণে আক্রান্ত বলেছে। এর ২৪টি এখানে আঁকা; বাকিগুলো আগেই মৃত বা শুকিয়ে যাওয়ার তালিকায় আছে। সূত্র
৫৭টি নদী যৌথ: ৫৪টি ভারতের সঙ্গে, ৩টি মিয়ানমারের সঙ্গে।[যৌথ নদী কমিশন] এর ৪৯টির উৎস বাংলাদেশের বাইরে, তাই দেশে কতটা পানি আসে তা নির্ভর করে উজানে কী বাকি থাকে তার ওপর।[যৌথ নদী কমিশন] যে ২৭টি আমরা আঁকতে পারি, সেগুলোর চারপাশে রেখা টানা।
সরকারি তালিকায় সবচেয়ে বেশি নদী সুনামগঞ্জে (১১৩), খুলনায় (১০৫) ও নেত্রকোনায় (৯২)।[পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়] অথচ এর ১,৪১৫টি নদীর মাত্র ৩৭৮টি কোনো উন্মুক্ত মানচিত্রে নাম ধরে খুঁজে পাওয়া যায়।[পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়]
নদীগুলোকে কী মারছে
কারণগুলো জানা, মাপা এবং নথিতে নাম ধরে বলা আছে। এর কোনোটিই রহস্য নয়।

শুষ্ক মৌসুমে একটি নদীর তলদেশ, শেরপুর জেলা, ২১ নভেম্বর ২০২৪.ছবি: Ayman Nakib Badhan, CC BY-SA 4.0
- ০১
উজানে পানি সরিয়ে নেওয়া
১.৪৭ ঘনমিটার/সেকেন্ড২০১২ সালে কাউনিয়ায় তিস্তার সর্বনিম্ন প্রবাহ[Rahman et al.]
আরডিআরসির তালিকার নদীগুলো পলিতে ভীষণ ভরাট আর শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়, "মূলত উজানে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে"।[দ্য ডেইলি স্টার] ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ ৫৭টি নদীর ৪৯টির উৎস বাংলাদেশের বাইরে।[যৌথ নদী কমিশন] যৌথ নদীগুলো দেখুন
- ০২
নদীর জমি দখল
৫৭,৩৯০ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ৭৭০টি নদী দখল করে আছে[দ্য ডেইলি স্টার]
এক বছরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, অন্তত ১০% দখলদার "স্থানীয়ভাবে ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী", উচ্ছেদ ব্যর্থ হওয়ার এটি একটি কারণ।[দ্য ডেইলি স্টার]
- ০৩
পানিতে বিষ
৫৬টির ৫৬টি২০২২ সালে সাত বিভাগে পরীক্ষা করা নদী দূষিত পাওয়া গেছে[দ্য ডেইলি স্টার]
শুধু ঢাকার আশপাশেই ৪৯০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দূষণকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত।[দ্য ডেইলি স্টার] নদী রক্ষা কমিশন বলছে, বেশির ভাগ কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) নেই, আর যেগুলোতে আছে তার অনেকগুলো সেটি চালায় না।[এনআরসিসি]
- ০৪
নদীর তলা থেকে বালু তোলা
৩৪৮২০২৪ সালে জেলা প্রশাসনের ঘোষিত বালুমহাল[জেলা প্রশাসন (এনআরসিসি প্রকাশিত)]
৬৪টি জেলার ২৫টিতে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বালুমহাল ঘোষণার আগে কোনো হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করা হয়নি।[জেলা প্রশাসন (এনআরসিসি প্রকাশিত)]
- ০৫
জলাভূমি ভরাট
৩২.৬%১৯৬০ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ঢাকা যত জলাশয় হারিয়েছে[Islam et al.]
ভরাট ও দখলই ছিল প্রধান কারণ। ঢাকা ও আশপাশের প্রায় ১৫,০০০ হেক্টর জলাভূমি ও প্লাবনভূমি এখন কংক্রিটের নিচে।[ঢাকা ট্রিবিউন]
মরণাপন্ন নদীর দাম কে দেয়
যে কৃষক শুকনো মৌসুমের ফসলের পানি হারান, যে জেলে মাছ হারান, যে মাঝি পথ হারান, আর তীরের যে পরিবার জমিটুকুই হারায়।
আইনের চোখে এখানকার প্রতিটি নদী জীবিত
২০১৯ সালে হাইকোর্ট তুরাগসহ বাংলাদেশের সব নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে, আর জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে তাদের আইনি অভিভাবক করে। ২০২০ সালে আপিল বিভাগ নির্দেশ দেয়, কোনো নদীর জমি ইজারা বা বিক্রি করা যাবে না।[সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ]
অভিভাবকের উপস্থিতি মাঠে দুর্বল। নিজের বর্ণনায় কমিশন চলে ভাড়া করা ভবনে, তিনটি গাড়ি নিয়ে, কোনো নৌযান ছাড়াই,[এনআরসিসি] আর উচ্ছেদে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপকে তারা বড় বাধা বলেছে।[এনআরসিসি]
২০২৬ সালের জুনে সংসদকে জানানো হয়েছে, নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ করে আলাদা নদী আদালতসহ আইন সংশোধনের কাজ চলছে।[ইউএনবি] আইন এগোচ্ছে। নদীগুলো অপেক্ষা করছে আইন প্রয়োগের।
মানচিত্র থেকে হারানো নদী
কিছু নদী তালিকা থেকে কাটা পড়েছে, কিছু কখনো গোনাই হয়নি, আর সরকারের নিজের তালিকার বেশির ভাগ নদী এমন কোনো মানচিত্রে নেই, যা যে কেউ খুলতে পারে। আমরা পুরো তালিকাটি, ১,৪১৫টি নদী, নতুন করে তৈরি করেছি, যাতে অবশেষে তাতে খোঁজা যায়।
নথিতে যা কিছু আছে
একই প্রমাণে ঢোকার এগারোটি পথ। প্রতিটি পাতায় প্রতিটি সংখ্যার সূত্র দেওয়া আছে।
রিভারস অব রেজিলিয়েন্স: কর্মসূচি
২৫ দিনের একটি জাতীয় প্রচারণা কর্মসূচি: একটি প্রামাণ্যচিত্র, ঢাকায় একটি ইমার্সিভ প্রদর্শনী, দশটি জেলায় প্রদর্শনী ও পাঁচটি নদীতীর সংলাপ। এই মানচিত্র তার প্রমাণের ভিত্তি।